সব আর্টিকেল
ফি ও কর
ভূমি উন্নয়ন কর
খাজনা
অনলাইন পেমেন্ট

ভূমি উন্নয়ন কর: অনলাইনে পরিশোধ পদ্ধতি

৮ জুন, ২০২৬
3 মিনিট পড়া
21 বার পড়া হয়েছে

ভূমি উন্নয়ন কর: সম্পূর্ণ গাইড


ভূমি উন্নয়ন কর কী?


ভূমি উন্নয়ন কর (যা স্থানীয়ভাবে খাজনা নামে পরিচিত) হলো জমির মালিকদের প্রতি বছর সরকারকে প্রদেয় একটি নির্দিষ্ট কর। এই কর থেকে অর্জিত রাজস্ব দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় হয়।


বর্তমান কর হার


কৃষি জমি

  • ২৫ বিঘা পর্যন্ত: সম্পূর্ণ মওকুফ বা ফ্রি (তবে ডিজিটাল সিস্টেমে প্রোফাইল নিবন্ধন করে হোল্ডিং হালনাগাদ করা বাধ্যতামূলক)।
  • ২৫ বিঘার বেশি হলে: এলাকা এবং জমির পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে সরকারি প্রগতিশীল (Progressive) হারে কর ধার্য হয়।

  • অকৃষি জমি

    অকৃষি জমির কর হার জমির অবস্থান (যেমন: সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পর্যায়) এবং ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়:

  • আবাসিক (বাসাবাড়ি/ব্যক্তিগত ব্যবহার): এলাকার বাণিজ্যিক গুরুত্ব অনুযায়ী প্রতি শতাংশের জন্য আলাদা ন্যূনতম হার নির্ধারণ করা থাকে।
  • বাণিজ্যিক ও শিল্প খাত (ব্যবসা/কারখানা): আবাসিক এলাকার তুলনায় বাণিজ্যিক ও শিল্প খাতের জমির কর হার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বেশি হয়ে থাকে।

  • অনলাইনে কর পরিশোধ (ই-ভূমি উন্নয়ন কর)


    বাংলাদেশ সরকার বর্তমানে খাজনা আদায়ের পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল বা অনলাইনভিত্তিক করেছে। আপনি ঘরে বসেই নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করে কর পরিশোধ করতে পারবেন:


    ১. পোর্টালে প্রবেশ: প্রথমে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট [land.gov.bd](https://land.gov.bd)-এ যান অথবা "E-LDTAX" মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন।

    ২. নাগরিক নিবন্ধন: আপনার সচল মোবাইল নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নম্বর এবং জন্ম তারিখ দিয়ে নাগরিক প্রোফাইল তৈরি বা লগইন করুন।

    ৩. খতিয়ান ও হোল্ডিং যুক্তকরণ: আপনার জমির জেলা, উপজেলা, মৌজা এবং হোল্ডিং নম্বর ইনপুট দিয়ে জমিটি প্রোফাইলে যুক্ত করুন।

    ৪. কর দাবি বা বকেয়া যাচাই: সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে আপনার হোল্ডিং অনুমোদিত হওয়ার পর স্ক্রিনে আপনার বর্তমান ও বিগত বছরের বকেয়া খাজনার মোট পরিমাণ দেখতে পাবেন।

    ৫. ডিজিটাল পেমেন্ট: মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ, নগদ, রকেট) বা ইন্টারনেট ব্যাংকিং/কার্ডের মাধ্যমে সুরক্ষিতভাবে অনলাইনে করের টাকা পরিশোধ করুন।

    ৬. দাখিলা (রসিদ) ডাউনলোড: পেমেন্ট সফল হওয়ার সাথে সাথে সিস্টেম থেকে আপনার ডিজিটালি সাইন করা ইলেকট্রনিক কর রসিদ বা দাখিলা ডাউনলোড এবং প্রিন্ট করে নিন।


    কর পরিশোধের সময়সীমা ও বিলম্ব ফি


  • সময়সীমা: প্রতি বাংলা বছরের শেষ দিন অর্থাৎ ৩০শে চৈত্র-এর মধ্যে ওই বছরের ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করতে হয়।
  • বিলম্ব ফি (জরিমানা): নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কর পরিশোধ না করলে বকেয়া দাবির ওপর বার্ষিক ৬.২৫% চক্রবৃদ্ধি হারে বিলম্ব ফি বা জরিমানা যুক্ত হয়।

  • কর না দিলে বা বকেয়া রাখলে কী হয়?


    নিয়মিত ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ না করলে নিম্নলিখিত আইনি জটিলতার মুখোমুখি হতে হবে:

  • জমি হস্তান্তরে বাধা: বকেয়া খাজনা থাকলে আপনি আইনগতভাবে জমি বিক্রি, দান বা অন্য কোনোভাবে হস্তান্তর করতে পারবেন না।
  • নামজারি বাতিল: যেকোনো নতুন নামজারি (মিউটেশন) আবেদনের ক্ষেত্রে আপ-টু-ডেট দাখিলা জমা না দিলে আবেদনটি সরাসরি নামঞ্জুর বা বাতিল হয়ে যাবে।
  • সার্টিফিকেট মামলা: দীর্ঘদিন কর বকেয়া রাখলে সরকার পিডিআর (Public Demands Recovery) অ্যাক্ট অনুযায়ী বকেয়া আদায়ের জন্য সার্টিফিকেট মামলা করতে পারে, যার ফলে জমির ওপর আইনি নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে বা জমি নিলাম পর্যন্ত হতে পারে।

  • ভূমি বিষয়ে সাহায্য দরকার?

    আমাদের যাচাইকৃত সেবাদাতাদের সাথে যোগাযোগ করুন

    সেবাদাতা খুঁজুন